দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিচ্ছেদ জীবনের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা। হঠাৎ সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রথম কয়েকটি দিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, অস্থির ও ক্লান্ত লাগতে পারে। এ সময় আবেগের বশে এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজেকে সামলে ওঠা জরুরি। মনোবিদ শিরিন দারগানের মতে, বিচ্ছেদের পর প্রথম সপ্তাহের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা।
মার্গা মাইন্ডকেয়ারের এই মনোবিদ বলেন, এগিয়ে যাওয়ার অর্থ সঙ্গে সঙ্গে কাউকে ভুলে যাওয়া নয়; বরং নিজেকে সুস্থ হওয়ার সুযোগ দেওয়া। সাবেক সঙ্গীকে বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁজা, তিনি কাকে অনুসরণ করছেন তা দেখা, তিনি নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন কি না তা জানার চেষ্টা কিংবা শুধু তিনি আদৌ ভালোবাসতেন কি না জানতে আবার যোগাযোগ করার তাড়না থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া বা মাদকসহ ক্ষতিকর উপায়ে মানসিক কষ্ট সামলানোর চেষ্টাও এড়িয়ে চলা উচিত।
শিরিন দারগান বলেন, ‘বিচ্ছেদের পর প্রথম কয়েক দিন লক্ষ্য হওয়া উচিত সঙ্গে সঙ্গে সব ভুলে যাওয়া নয়। নিজেকে স্থির করা, নিজের অনুভূতিগুলো বোঝা এবং ধীরে ধীরে নিয়মিত জীবনে ফিরে আসাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম সপ্তাহ কাউকে ভুলে যাওয়ার সময় নয়; বরং আবার নিজের অবস্থান খুঁজে পাওয়ার সময়।’
এই সময়ে নিজেকে সামলে রাখতে মনোবিদ পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রথমত, দৈনন্দিন মৌলিক বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে। নিয়মিত ঘুম, খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং কিছুটা শারীরিক নড়াচড়া বজায় রাখা জরুরি। মানসিক কষ্ট ক্ষুধা, ঘুম ও কর্মশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে, যা উদ্বেগ ও মন খারাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। অল্প সময় হাঁটা, গোসল করা কিংবা নিয়ম করে খাবার খাওয়াও শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সাহায্য করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, নিজের অনুভূতিকে দমন না করে তা অনুভব করার জন্য প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় রাখা যেতে পারে। এ সময় ডায়েরিতে লেখা, কান্না করা কিংবা নিজের অনুভূতিগুলো স্বীকার করার মতো কাজ করা যায়। নিজের আবেগের নাম দিতে পারলে তা সামলানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে উদ্দেশ্য হলো অনুভূতিকে স্বীকার করা, সেটিকে পুরো দিন নিয়ন্ত্রণ করতে না দেওয়া।
তৃতীয়ত, বিচ্ছেদের পর মানসিক কষ্ট বাড়াতে পারে এমন বিষয় থেকে কিছুটা দূরে থাকা দরকার। সাবেক সঙ্গীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পুরোনো ছবি, বার্তা কিংবা অনলাইনে তিনি কখন সক্রিয় আছেন—এসব বারবার দেখা আবেগের ক্ষতকে নতুন করে সক্রিয় করতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে এসব দেখার সুযোগ সীমিত করা যেতে পারে। এটি অপরিপক্বতা বা তিক্ততার প্রকাশ নয়; বরং মানসিকভাবে দুর্বল সময়ে নিজেকে কিছুটা মানসিক পরিসর দেওয়ার উপায়।
চতুর্থত, বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিচ্ছেদের পর অনেকেরই নিজেকে সবার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে ইচ্ছা করে। এর বদলে বিশ্বাস করেন এমন এক বা দুজন মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো যেতে পারে। সব সময় পরামর্শের প্রয়োজন হয় না। কারও সঙ্গে চুপচাপ বসে থাকা, হাঁটতে যাওয়া কিংবা একসঙ্গে খাবার খাওয়াও একাকিত্ব ও অতিরিক্ত চিন্তার চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
পঞ্চমত, আবেগের তীব্র সময়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। বিচ্ছেদের প্রথম সপ্তাহে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, চাকরি ছেড়ে দেওয়া, অতিরিক্ত মদ্যপান কিংবা সাবেক সঙ্গীকে বারবার বার্তা পাঠানোর মতো আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়া জরুরি।
বিচ্ছেদের পর মানসিক সুস্থতার পথ সব সময় একরকম থাকে না। কোনো দিন বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ভালো লাগতে পারে, কাজেও ভালো করা সম্ভব হতে পারে। আবার অন্য কোনো দিন তীব্র মন খারাপ ফিরে আসতে পারে। এই ওঠানামা স্বাভাবিক। মনোবিদের মতে, সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া কখনোই সরলরৈখিক নয়।
শিরিন দারগানের পরামর্শ, ‘এক দিন ভালো লাগা এবং পরের দিন কঠিন সময় পার করা মানে এই নয় যে আপনি পিছিয়ে যাচ্ছেন।’ তবে দুঃখ, উদ্বেগ, ঘুম বা ক্ষুধার পরিবর্তন কিংবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা তীব্র হয়ে উঠলে বা দীর্ঘস্থায়ী হলে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
/অ